
মোঃ সামিউল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
স্টাফ রিপোর্টার
মাইদুল ইসলাম
নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তরা ইপিজেড মোড় এলাকার রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সে ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন মো. ছামিউল আলম। তাঁর ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, ড্রেসিং এবং অপারেশন-সংক্রান্ত সেবার প্রচারণা থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা নিবন্ধন ও প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে নাকের হাড় বাঁকা বা মাংস বৃদ্ধি, শিরার সমস্যা, কানের সমস্যা, চোখ, দাঁত ও জিহ্বার সমস্যা, কাটা বা পোড়া দাগ, চর্মরোগ, টনসিল, নখের সমস্যা, পায়ের তালু সমান হওয়া, হাত-পায়ের তালু ঘামা এবং মলদ্বারের সমস্যাসহ মোট ১৩ ধরনের চিকিৎসাসেবার উল্লেখ রয়েছে।
সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে বেশ কয়েকজন রোগী সিরিয়ালে অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা রোগী ছিলেন। এদের মধ্যে মোঃ: সাব্বির ইসলাম নামে এক রোগী জানান, তিনি সেনাবাহিনীর মাঠে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, ছামিউল আলম তাঁকে দেখে নাকে মাংস বৃদ্ধি হয়েছে এবং অপারেশন করতে হবে বলে জানান। অপারেশনের খরচ কত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি সেখানে এসেছেন বলে জানান ওই রোগী।
বক্তব্য নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে মো. ছামিউল আলমের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, সেই রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সের মালিক কালামের স্ত্রী শাহীনা বেগম ও তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরাও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এসব সেবা দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নীলফামারী সদর, ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মো. ছামিউল আলমের প্রেসক্রিপশনে যে ১৩টি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে, তার একটি সেবাও তাঁর দেওয়ার নিয়ম নেই।” তাঁর দাবি, এসব সেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এতে রোগীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নীলফামারী জেলার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিবন্ধিত বা অনুমোদিত নয়।
এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগের কথা জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত কয়েকজন চীনা নাগরিক ভাড়া থাকেন এবং অল্পবয়সী বাংলাদেশি মেয়েদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’-এর নিবন্ধন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা ও অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না—তা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হোক। অনিয়ম বা অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মো. ছামিউল আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
Leave a Reply